
দিরাই প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হয়নি, তবুও নির্বাচনের হাওয়া বইছে সুনামগঞ্জ-২(দিরাই-শাল্লা) আসনে।তবে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় দিরাই-শাল্লায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও গুঞ্জন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সব জায়গাতেই এখন এ আসন নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন যেন থামছেই না।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ২৩৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। (৩ অক্টোবর) বিকেলে
রাজধানী গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
দলটির মাহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিক ভাবে এ ঘোষণা দেন।এতে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করলেও। সুনামগঞ্জ- ২ ও সুনামগঞ্জ -৪ আসনে কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি।
কিন্তু কোন কারণে বিএনপি এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি তা স্পষ্ট করেনি দলের হাইকমান্ড। তবে অবশ্য এই আসনটি বিএনপি শরিকদের কখনও ছেড়ে দেওয়ার রেকর্ডও নেই। যে কারণে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখনও আশাবাদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,এবার হয়তোবা প্রথমবারের মতো এই আসনটি বিএনপি জোটের শরিকদের হাতে ছেড়ে দিতে পারে। যার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে।এই আসনে ২০-দলীয় জোট থেকে প্রার্থী হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।সুনামগঞ্জ -২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর জোটের প্রার্থী হতে পারেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমেদ। গত (১০ নভেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে দিরাই এসে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল শোডাউনে তাকে স্বাগত জানান।পরে পৌর শহরের থানা পয়েন্টে অনুষ্ঠিত পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের এক পর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব আহমদ বলেন।জোট যদি হয় (দিরাই-শাল্লা) নিয়ে জোট হবে।
তবে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন।তবে খুব শিগগিরই তিনি দেশে ফেরার কথা রয়েছে।নাছির উদ্দিন চৌধুরী ১৯৮৫,১৯৮৯ সালে দুই দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে (দিরাই-শাল্লা)সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০১,২০০৮ ও ২০১৮ সালে তিন বার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি।স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা,দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ সংগ্রাম আর আস্থার কারণে হয়তো উনার অপেক্ষা করছেন কেন্দ্রীয় নেতার।তিনি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরলে দলীয়ভাবে কোন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা গত কয়েক মাসে দিরাই-শাল্লায় ব্যাপক গণসংযোগ,বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময় করেছেন। নেতা-কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জানা গেছে, এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা তিন জন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী,সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দীন চৌধুরী রুমি,সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল।